আয়ের খাতা
মাস শেষে USDT আয়ের হিসাব মেলানো: খাতা, এক্সচেঞ্জ ও ব্যাংক
নিজের খাতা, এক্সচেঞ্জের জমার রেকর্ড আর ক্যাশআউট — এই তিনটি উৎস মাসে একবার এক ছকে বসিয়ে মেলানোর ধাপ, পার্থক্যের স্বাভাবিক কারণ আর মাস বন্ধ করার আগের চেকলিস্ট।
মাসের ভেতরে প্রতিটি পেমেন্ট আলাদাভাবে ঠিকই মনে থাকে, কিন্তু মাস শেষে যখন পুরো আয়ের একটা সংখ্যা দরকার হয় — ব্যাংকের জন্য, Freelancer ID-এর নথির জন্য, বা নিজের হিসাব রাখার জন্য — তখন প্রায়ই দেখা যায় তিন জায়গার সংখ্যা তিন রকম। নিজের খাতায় এক, এক্সচেঞ্জ বা ওয়ালেটের রেকর্ডে আরেক, আর ব্যাংকে ঢোকা টাকায় তৃতীয় আরেকটা। এই লেখাটি সেই তিনটি উৎস মাসে একবার পাশাপাশি বসিয়ে মিলিয়ে নেওয়ার একটা কাজ-চালানোর নিয়ম।
কোন তিনটি উৎস মেলাতে হয়
১. নিজের খাতা — কাজ শেষে আপনি যে সারি লিখে রাখেন: তারিখ, ইনভয়েস নম্বর, ক্লায়েন্ট, USDT পরিমাণ, নেটওয়ার্ক, ট্রানজ্যাকশন হ্যাশ। এই খাতার কাঠামো নিয়ে আলাদা করে লেখা আছে মাসিক USDT আয়ের খাতা ও CSV ফাইল লেখাটিতে। ২. এক্সচেঞ্জ বা ওয়ালেটের নিজস্ব রেকর্ড — অ্যাকাউন্টে আসলে কত USDT জমা হলো, কোন নেটওয়ার্কে, কোন সময়ে। ৩. ক্যাশআউটের রেকর্ড — ওই USDT থেকে যেটুকু টাকায় বদলে ব্যাংকে বা অন্য কোথাও নিয়েছেন, সেটির তারিখ ও পরিমাণ।
তিনটি এক সংখ্যা হবে না, এবং হওয়ার কথাও নয়। উদ্দেশ্য সংখ্যা মিলিয়ে ফেলা নয় — উদ্দেশ্য হলো প্রতিটি পার্থক্যের একটা জানা কারণ থাকা।
মাস বন্ধ করার তারিখ আগে ঠিক করুন
মিলকরণ শুরুর আগে ঠিক করুন মাস কোথায় শেষ হচ্ছে এবং কোন সময় অঞ্চলে। ব্লকচেইনের রেকর্ড সাধারণত UTC-তে দেখানো হয়, আপনার খাতা সম্ভবত বাংলাদেশ সময়ে (+06) লেখা। ফলে মাসের একেবারে শেষ রাতের একটি পেমেন্ট এক উৎসে ৩০ তারিখে আর অন্য উৎসে ১ তারিখে পড়তে পারে। একটাই নিয়ম সারা বছর ধরে রাখুন: খাতায় সব সময় +06 লিখুন, আর এক্সচেঞ্জের সময় দেখার সময় মনে রাখুন সেটি কোন অঞ্চলে দেখাচ্ছে।
ছকটি কেমন দেখতে

এক সারি = এক পেমেন্ট। তিনটি উৎসের সংখ্যা পাশাপাশি বসে, আর ডানদিকের পার্থক্য কলামে দেখা যায় কোথায় গরমিল। উপরের ছকের সংখ্যাগুলো কাঠামো বোঝানোর জন্য বসানো নমুনা।
ধাপে ধাপে মেলানো
ধাপ ১ — খাতা থেকে সারি তুলুন। ওই মাসে পাওয়া প্রতিটি পেমেন্টের জন্য একটি করে সারি। কোনো পেমেন্ট বাদ পড়েছে কি না, সেটি ইনভয়েস নম্বরের ধারাবাহিকতা দেখে ধরা সহজ — ০১, ০২, ০৪ থাকলে ০৩ কোথায় গেল সেটি সঙ্গে সঙ্গে চোখে পড়ে।
ধাপ ২ — এক্সচেঞ্জ বা ওয়ালেটের জমার তালিকা বের করুন। বেশিরভাগ জায়গায় ডিপোজিট বা ট্রানজ্যাকশন হিস্ট্রি তারিখ দিয়ে ছেঁকে দেখা যায় এবং ফাইল হিসেবে নামানো যায়। সেই তালিকা থেকে প্রতিটি জমার পরিমাণ ছকের সংশ্লিষ্ট সারিতে বসান।
ধাপ ৩ — হ্যাশ দিয়ে সন্দেহজনক সারিগুলো যাচাই করুন। কোনো সারি নিয়ে দ্বিধা থাকলে ট্রানজ্যাকশন হ্যাশ ধরে ব্লক এক্সপ্লোরারে দেখলে লেনদেনটির সময়, পরিমাণ ও গন্তব্য ঠিকানা মেলানো যায়। হ্যাশ ঠিক কী প্রমাণ করে আর কী করে না, সেটি বিস্তারিত আছে ট্রানজ্যাকশন হ্যাশ কী প্রমাণ দেয় লেখাটিতে।
ধাপ ৪ — পার্থক্য কলাম পূরণ করুন। খাতার সংখ্যা বিয়োগ জমার সংখ্যা। শূন্য হলে ভালো। শূন্য না হলে পাশে কারণ লিখুন।
পার্থক্যের যে কারণগুলো স্বাভাবিক
- নেটওয়ার্ক ফি কেটে নেওয়া। ক্লায়েন্ট যদি নিজের প্রান্ত থেকে ফি না দিয়ে পাঠানো পরিমাণ থেকেই কাটতে দেন, আপনার কাছে কম আসবে। ফি নেটওয়ার্ক ও সময়ভেদে বদলায়, তাই আগের মাসের সংখ্যা ধরে নেবেন না — প্রতিবার আসল সংখ্যাই লিখুন।
- এক্সচেঞ্জের জমা ফি বা সর্বনিম্ন সীমা। কিছু জায়গায় জমার নিজস্ব শর্ত থাকে; শর্ত বদলায়, তাই নিজের অ্যাকাউন্টের রেকর্ডই শেষ কথা।
- মাসের সীমানায় পড়া পেমেন্ট। সময় অঞ্চলের কারণে এক উৎসে আগের মাসে পড়েছে।
- এখনও নিশ্চিত হয়নি এমন লেনদেন। পাঠানো হয়েছে কিন্তু জমা হয়নি।
- ক্যাশআউট পরের মাসে। USDT এ মাসে এসেছে, টাকায় বদলেছেন পরের মাসে — তাই ব্যাংকের সংখ্যা মিলবে না, এবং সেটাই স্বাভাবিক।
যেগুলো মেলে না, তাদের নিয়ে কী করবেন
পার্থক্যের পাশে কারণ লিখতে না পারলে সারিটি খোলা রাখুন, ধরে নেবেন না। খোলা সারির জন্য কাজের ক্রম: ইনভয়েসে লেখা পরিমাণ আর ক্লায়েন্টকে দেওয়া চূড়ান্ত কোট এক কি না দেখুন; ক্লায়েন্টের কাছ থেকে পাঠানোর হ্যাশ চেয়ে নিন; হ্যাশ ধরে এক্সপ্লোরারে দেখুন কোন ঠিকানায় ও কোন নেটওয়ার্কে গেছে। ইনভয়েস, ক্লায়েন্ট ও তারিখ এক সারিতে বসানোর নিয়ম নিয়ে আলাদা লেখা আছে ইনভয়েস, ক্লায়েন্ট ও পেমেন্টের তারিখ মেলানো শিরোনামে।
একটি খোলা সারি পরের মাসে টেনে নেওয়া দোষের কিছু নয়, কিন্তু সেটি যেন খোলা অবস্থাতেই থাকে — মাসের মোটে জোর করে ঢুকিয়ে দেবেন না।
মাস বন্ধ করার আগে শেষ পাঁচটি প্রশ্ন
১. প্রতিটি ইনভয়েসের বিপরীতে একটি সারি আছে তো? ২. প্রতিটি পার্থক্যের পাশে কারণ লেখা আছে তো? ৩. প্রতিটি পেমেন্টের পাওয়ার সময়কার টাকার মূল্য লেখা আছে তো, এবং উৎস ও সময়সহ? এটি না থাকলে USDT পাওয়ার সময় টাকার মূল্য কীভাবে লিখবেন দেখে নিন। ৪. এক্সচেঞ্জ থেকে নামানো ফাইল ও দরকারি স্ক্রিনশট মাসের ফোল্ডারে রাখা হয়েছে তো? ৫. এই মাসের মোট সংখ্যাটি কোন সংজ্ঞায় — মোট পাওয়া USDT, নাকি ফি বাদে হাতে আসা, নাকি টাকায় রূপান্তরিত অংশ? সংজ্ঞাটি লিখে রাখুন, কারণ বছর শেষে বা কেউ প্রশ্ন করলে এই একই সংজ্ঞা ধরেই উত্তর দিতে হবে।
যে ভুলগুলো বারবার হয়
মাস শেষে স্মৃতি থেকে খাতা পূরণ করা; পার্থক্য দেখে সংখ্যাটা "গোল" করে দেওয়া; এক মাসে USDT ধরে হিসাব করা আর পরের মাসে টাকা ধরে; আর এক্সচেঞ্জের রেকর্ড পরে নামাব ভেবে ফেলে রাখা। মিলকরণের কাজটা আধ ঘণ্টার, কিন্তু সেটা তখনই আধ ঘণ্টার থাকে যখন কাঁচা তথ্যগুলো আগে থেকেই জায়গামতো থাকে।
